বাড়বে আকাশপথে ভ্রমণের খরচ

বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। ‘যাত্রী নিরাপত্তা ফি’ ও ‘বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি’ নামে এ অর্থ টিকিট বিক্রির সময়েই যাত্রীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে এয়ারলাইনসগুলো, যা পরবর্তীতে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হবে।
গত বছর যাত্রীদের থেকে এসব ফি আদায়ের প্রস্তাব দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ফি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি ২০ ডলার, সার্কবহির্ভূত দেশের ক্ষেত্রে ৩০ ডলার ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীর ক্ষেত্রে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সার্কভুক্ত দেশের একজন আন্তর্জাতিক যাত্রীকে প্রায় দেড় হাজার টাকা এবং সার্কবহির্ভূত দেশের যাত্রীদের প্রায় আড়াই হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মো. জিয়াউল হক জানান, সারা বিশ্বে সিকিউরিটি চার্জ আরোপ করা হয়। বর্তমানে আমাদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এজন্য যাত্রীপ্রতি নির্দিষ্ট হারে ফি নির্ধারণ করা হবে। তবে এ ফি যাত্রীদের কাছ থেকে নেবে এয়ারলাইনসগুলো, যা পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে সরকার পাবে। তবে ফি কত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যাত্রীদের ওপর চাপ পড়ে, এমন কোনো চার্জ আরোপ করা হবে না। আলোচনা করে হয়তো ১০০-২৫০ টাকার মধ্যেই নির্ধারণ হতে পারে।
জানা গেছে, ‘যাত্রী নিরাপত্তা ফি’ ও ‘বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি’-এর বিষয়ে আলোচনার জন্য ১৯ মার্চ একটি বৈঠক আহ্বান করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিসহ বেবিচক চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিরাপত্তা’ ও ‘বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি’ আরোপের বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠিও এসেছে। তবে কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের ফি আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের প্রস্তাব বেবিচকের পরিচালনা পর্ষদের ২২৫তম সভায় অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে প্রত্যেক যাত্রী থেকে বিমানবন্দর উন্নয়ন ও যাত্রী নিরাপত্তা ফি নামে আলাদা দুটি ফি আদায় করা হবে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাকিস্তান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আদায় করা নিরাপত্তা ফি ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফির হার তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পাকিস্তানে যাত্রীপ্রতি নিরাপত্তা ফি ১০ ডলার ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ১০ ডলার, ভারতে যাত্রীপ্রতি নিরাপত্তা ফি ১৫ ডলার ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ৫ দশমিক ১৮ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীপ্রতি নিরাপত্তা ফি ৫ ডলার ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ৪ দশমিক ৫ ডলার এবং যুক্তরাজ্যের অরহামটিস ভ্যালি বিমানবন্দরে যাত্রীপ্রতি নিরাপত্তা ফি ৬ পাউন্ড আদায় করা হচ্ছে। এর আলোকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি নিরাপত্তা ফি ১৫ ডলার ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ১৫ ডলার এবং সার্কবহির্ভূত দেশগুলোর ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি নিরাপত্তা ফি ২০ ডলার ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ২০ ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
বেবিচকের পরিচালনা পর্ষদের ওই সভায় যাত্রীদের কাছ থেকে যাত্রী নিরাপত্তা ফি এবং বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা কর্মপত্রে বেবিচক জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিমানবন্দরের প্রদত্ত সেবার ওপর ভিত্তি করে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের চার্জ বা ফি, যেমন— প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ফি, নিরাপত্তা ফি, বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি আদায় করা হয়ে থাকে। এ ধরনের ফি আদায় করে যে অর্থের সংকুলান হয়, তা দিয়ে বিমানবন্দরগুলোর বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ব্যয় হওয়া খরচ মেটানো হয়।
Share on Google Plus

About নব কিশোর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment